সংসদ অধিবেশন মুলতবি

সংসদের বৈঠক ১৫ নভেম্বর সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ মুলতবি ঘোষণা করেন। এর আগে সাবেক সংসদ সদস্য ড. মিজানুল হক, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ ৬ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে আজ সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে তাদের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে।

মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ ফজলুল হক আসপিয়া, মকবুল হোসেন, আলী ওসমান খান, শেখ সাহিদুর রহমান, এছাড়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামানের সহধর্মিণী ও বর্তমান সংসদ সদস্য অপরাজিতা হকের মাতা মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক কুলসুম জামান, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ আবু নছর, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান রাঙা, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নাট্যব্যক্তিত্ব বরেণ্য অভিনেতা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. ইনামুল হক, প্রখ্যাত মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদ, জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার, শিশু সংগঠক, নাট্যকার ও বর্ষীয়ান সাংবাদিক রফিকুল হক দাদুভাই, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কাজী সামসুল আলম, সংসদ সচিবালয়ের সাবেক যুগ্মসচিব মোঃ আব্দুস শহীদ এবং সংসদ সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোঃ আইউব আলী খান। এদের মৃত্যুতে মহান সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

শোক প্রস্তাবে প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে যে সব ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসন-পুলিশের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মৃত্যুতেও সংসদ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া শোক প্রস্তাবে সিয়েরা লিওনের রাজধানী ফ্রিটাউনে তেলবাহী ট্যাংকার ও লরির সংঘর্ষে বিস্ফোরণে হতাহত এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে জাতীয় সংসদ থেকে গভীর শোক প্রকাশ, সকল বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।

এর পর মৃত্যুবরণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন তরিকত ফেডারশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি।