টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আজ

ওয়ানডে বিশ্বকাপের সফলতম দল অস্ট্রেলিয়া। তবে সীমিত ওভার ক্রিকেটের আরেক সংস্করণে তাদের ভাণ্ডার শূন্য। এক দশকের বেশি সময় পর আবার সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর সুযোগ তাদের সামনে। প্রতিবেশী নিউ জিল্যান্ডের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ দিনের। শূণন্যতা আরও বেশি। সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলোর একটি হলেও জেতা হয়নি কোনো সংস্করণের বিশ্ব শিরোপা। তাসমান সাগর পাড়ের দুই দেশের লড়াইয়ে এবার টি-টোয়েন্টি পাবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ ফুরোবে এক দলের অপেক্ষা, দীর্ঘায়িত হবে আরেক দলের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ড। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়।

দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম আগের লড়াইয়ে সেই সময়ের উড়ন্ত প্রতিবেশীদের মাটিতে নামিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ানরা। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া ২০ ওভারের বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠতে পেরেছে আগে কেবল একবার। ২০১০ আসরে তাদেরকে হারিয়ে প্রথম বৈশ্বিক শিরোপা পায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড।

চলতি আসরের আগে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বাজি ধরার লোক খুব একটা ছিল না। বিশ্বকাপের আগে টানা পাঁচটি সিরিজ হারে ভারত, ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে। তবে বড় টুর্নামেন্টের দল অস্ট্রেলিয়া ঠিকই ছন্দ ফিরে পায় ঠিক সময়ে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুরু করে বিশ্বকাপ। পরে অবশ্য হেরে যায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগে দুইবার সেমি-ফাইনালে খেললেও এবারই প্রথম ফাইনালে খেলছে নিউ জিল্যান্ড। ওয়ানডেতে আটবার সেমি-ফাইনালে খেলা দলটি সবশেষ দুই আসরে হয় রানার্সআপ। ২০১৫ আসরে প্রথমবার ফাইনালে ওঠে দলটির স্বপ্ন ভেঙেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই হেরে। এরপর থেকে অনেক এগিয়েছে নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেট। লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে পা রেখেছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের কাছে ফাইনালটি আরেকটি সুযোগ।

বিশ্বকাপে এর আগে কেবল একটি ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে ৮ রানে জিতেছিল নিউ জিল্যান্ড। গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে দুই দলের সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজেও জয়ের হাসি হেসেছিল তারা। সেবার সিরিজ জিতেছিল ৩-২ ব্যবধানে। এবার আরও বড় মঞ্চে মুখোমুখি দুই দল। সেখানে হাসি দেখা যাবে কাদের মুখে? তাসমান সাগর পাড়ের দুই দেশের লড়াইয়ে ঘুচবে অস্ট্রেলিয়ার অপূর্ণতা? নাকি প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে মেতে ওঠবে নিউ জিল্যান্ড?