১৯৯ র‍্যাঙ্কিংয়ের দলকেও হারাতে পারল না বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ফুটবলে ব্যর্থতাই যেন নিয়মিত সঙ্গী। সেই ব্যর্থতার পালকে যোগ হলো নতুন নাম সিশেলস। র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগারো ধাপ পিছিয়ে আছে দলটি। ১৯৯ র‍্যাঙ্কিংধারী দলের বিরুদ্ধে লিড নিয়েও পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি জামালরা। চার জাতির টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ সিশেলসের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করেছে। পূর্ব আফ্রিকার ক্ষুদ্র একটি দেশ সিশেলস। যাদের জনসংখ্যা এক লাখেরও কম। ফুটবল র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে অনেক। এমন দলের বিরুদ্ধে ড্র করা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য চরম লজ্জাকর।

১৬ মিনিটে ইব্রাহীমের গোলে বাংলাদেশ লিড নিয়েছিল। সেই লিড ম্যাচের ৮৭ মিনিট পর্যন্ত ধরেও রেখেছিল। ৮৮ মিনিটে সিলেশস কর্ণার থেকে জটলার মধ্য থেকে ব্রেন্ডনের গোলে ম্যাচে সমতা আনে। স্কোরলাইন ১-১ দেখালেও সিশেলস ম্যাচটি জিততে পারতো অনায়সেই। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ সৃষ্টি করলেও দ্বিতীয়ার্ধে একচেটিয়া খেলেছে আফ্রিকা মহাদেশের দলটি। ততোধিক গোলের সুযোগ মিস করেছে। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই দুর্দান্ত সেভ করেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। এরপর ক্রমান্বয়ে আরো কয়েকটি আক্রমণ করে সিলেশস। ফরোয়ার্ডরা গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস করেছেন। যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সচরাচর হয় না। শেষ পর্যন্ত ৮৮ মিনিটে বাংলাদেশ আর নিজেদের লিড ধরে রাখতে পারেনি।

ম্যাচের বাকি সময় বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছে। কর্নার আদায় করলেও গোল আদায় করতে পারেনি। বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে গিয়েছিল ফাইনাল খেলার লক্ষ্যে। দুর্বল সিশেলসের বিরুদ্ধে ড্র করে ফাইনাল খেলা অনিশ্চিত হলো।

টানা বৃষ্টিতে কলম্বোর রেসকোর্স মাঠ অনেকটা ভারী। সিশেলসের অর্ধ আরো বেশি ভারী তুলনামূলক। বাংলাদেশ দল এমন ভারী মাঠে প্রথমার্ধে এক গোলের লীড নিয়েছে। যদিও প্রথমার্ধে তিন গোলে লিড নেয়ার মতো সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। সিলেশসের বক্সে বেশি কাদা থাকায় ফরোয়ার্ডরা অবশ্য স্বাভাবিক শট নিতে পারেননি অনেক সময়।

ম্যাচের ১৬ মিনিটে লিড এনে দেন ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহীম। ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশা লম্বা থ্রু ঠেলে দেন। বাংলাদেশের মিডফিল্ডার ও সিশেলসের ডিফেন্ডারদের ফাঁকে বল পান ইব্রাহীম। বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একজন কাটিয়ে বক্সের মধ্যে প্রবেশ করেন বসুন্ধরা কিংসের এই ফরোয়ার্ড। কোণাকুণি শটে গোল করেন ইব্রাহীম।

সিশেলস এ সময় মাঝ মাঠে বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে টক্কর দিলেও গোল করার মতো কিছু করতে পারেননি। একবার দূর পাল্লার শট নিয়েছিল সিশেলসের ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক জিকো সরাসরি গ্রিপে না আনতে পারলেও কোনো বিপদ হয়নি বক্সের মধ্যে কেউ না থাকায়।

ইব্রাহীম ৪১ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগ মিস করেন। বক্সের মধ্যে ফ্রি থেকেও ভালো মতো শট নিতে পারেননি। একদম গোলের সুযোগ মিস করেন ইব্রাহীম। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও এ রকম একটি সুযোগ মিস করেন মিনিট দশেক আগে। তাদের এই ব্যর্থতার পেছনে বক্সের কাদাও কারণ হতে পারে।