শ্রমমানের উন্নয়নে রোডম্যাপ বাস্তবায়ন চলছে : আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি বলেছেন, বাংলাদেশে শ্রমমানের অধিকতর উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত রোডম্যাপ বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে চলছে। শনিবার ভার্চুয়াল ফ্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডির ৩৪৩তম সভায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি সভায় বাংলাদেশে শ্রমমানের অধিকতর উন্নয়নে ২০২১-২০২৬ সময়কালে বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত রোডম্যাপের বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন। চলতি মাসের এক তারিখ থেকে ভার্চুয়াল ফ্লাটফর্মে আইএলও’র গভর্নিং বডির এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত তা চলবে

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার শুরু থেকেই সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এ রোডম্যাপ বাস্তবায়নে কাজ করছে। তিনি জানান, শ্রমখাতে বিরাজমান ছোটখাট বাধাসমূহ দূর করার জন্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ফলে বাংলাদেশে শ্রমমানের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

আইএলও-কে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই জবরদস্তি-শ্রম সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন ২৯ এর প্রটোকল অনুসমর্থনের বিষয়টি অনুমোদন করেছে। এছাড়া, শ্রমসাধ্য কাজে নিয়োগের ন্যূনতম বয়স সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুমোদনের বিষয়ে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনে সহযোগিতা করার জন্য শ্রম অধিদপ্তরের প্রতিটি অফিসে প্রি-অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পখাতেও ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ২০১৩ সালের ১৩২টি থেকে বেড়ে ২০২১ সালে ১০৪৫টিতে উন্নীত হয়েছে। এ বছর ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের সফলতা প্রায় ৯০%।

শ্রমমান পরিদর্শনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী জানান, শ্রম পরিদর্শকের ৮৯টি পদে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। অতিরিক্ত জনবল ও অর্থ বরাদ্দসহ কলকারখানা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরকে দ্বিতীয় ধাপে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। শ্রম পরিদর্শকদের পেশাকে আকর্ষণীয় করার জন্য পদোন্নতির লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ে পদের সংখ্যা বৃদ্ধি ও পদোন্নতির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাঁদের শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কলকারখানা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের ২৩টি কার্যালয়কে লেবার ইন্সপেকশন ম্যানেজমেন্ট এপ্লিকেশন (লিমা) এর আওতায় আনা হয়েছে। কলকারখানা ও পরিদর্শন অধিদপ্তর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে পরিদর্শন পরিচালনা কাযর্ক্রম শুরু করেছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

সরকার জাতীয় পেশাগত সেইফটি কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, বর্তমানে কারখানা পর্যায়ে ৬ হাজারের বেশি সেফটি কমিটি কাজ করছে। অধিকন্তু শ্রমিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য কলকারখানা ও পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জুন ২০২০ হতে জুলাই ২০২১ সময়কালে অনেক শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে যার মধ্যে ৪৫% মহিলা শ্রমিক।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত ১০৮তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে শ্রমিক প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশে আইএলও কনভেনশন ৮১, ৮৭ এবং ৯৮ বাস্তবায়নের বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করে। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ২০২১ সালের জুন মাসে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে আইএলওতে দাখিল করে। রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে দায়েরকৃত কর্মপরিকল্পনাও রয়েছে। ত্রিপক্ষীয় বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে রোডম্যাপ ও কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬টি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে।

আইএলও-এর সুপারিশ ও কনভেনশনের আলোকে শ্রম আইন, ২০০৬, শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ ও বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ সংশোধন এবং ইপিজেড শ্রম বিধিমালা প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শ্রম আদালতে মামলার জট কমানোর জন্য নতুন নতুন শ্রম আদালত স্থাপন করা হচ্ছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি তৈরির জন্য আইএলও’র সহায়তা নেয়া হচ্ছে। আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, গত এক বছরে শ্রম খাতে কোন অসন্তোষ দেখা যায়নি।

সভাশেষে রোডম্যাপের বাস্তবায়ন তদারকির জন্য আইনমন্ত্রী প্রতিমাসে তিনটি করে সভা অনুষ্ঠানসহ শ্রমিক সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ এহছানে এলাহী, জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গৌতম কুমার, কলকারখানা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ইউএন) সামিয়া আনজুম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ হুমায়ুন কবীর, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মো. জাকেরুল আবেদীন প্রমুখ আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন।