মেট্রোরেলের সার্বিক অগ্রগতি ৭২ শতাংশ

এগিয়ে চলছে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ। গত অক্টোবর মাস পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ এর নির্মাণ কাজের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশ। এছাড়া প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব হতে আগারগাঁও পর্যন্ত পূর্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত আগারগাঁও হতে মতিঝিল অংশের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুশাসন অনুসরণে মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশে ভূমি অধিগ্রহণ ও ডিটেইল ডিজাইনসহ প্রাথমিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম, রেল ক্রস, এবং ডিপোর যন্ত্রপাতির সংগ্রহের কাজে সমন্বিত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ৮টি প্যাকেজের মাধ্যমে এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের প্যাকেজ ভিত্তিক অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

প্যাকেজ-১ (ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন): এই প্যাকেজের বাস্তব কাজ ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে নির্ধারিত সময়ের ৯ মাস আগে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি সমাপ্ত হয়েছে। এতে সরকারের ৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এই প্যাকেজের বাস্তব অগ্রগতি ১০০ শতাংশ।

প্যাকেজ-২ (ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ): এই প্যাকেজের বাস্তব কাজ ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। ডিপোর অভ্যন্তরে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত মোট ৫২টি অবকাঠামোর মধ্যে ৩২টি অবকাঠামোর কাজ পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ডিপো এলাকার অবশিষ্ট কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে ডিপোর সার্বিক কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই প্যাকেজের বাস্তব অগ্রগতি ৯৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

প্যাকেজ-৩ ও ৪ (উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণ): উভয় প্যাকেজের কাজ ২০১৭ সালের ১ আগস্ট শুরু হয়েছে। এরমধ্যে পরিষেবা স্থানান্তর, চেকবোরিং, টেস্ট পাইল, মূল পাইল, পাইল ক্যাপ, আই-গার্ডার, প্রিকাস্ট সেগমেন্ট কাস্টিং, পিয়ার হেড, ভায়াডাক্টের ওপর প্যারাপেট ওয়াল স্থাপন, লং স্প্যান ব্যালেন্সড ক্যান্টিলিভার নির্মাণ, সকল স্টেশনের সাব-স্টাকচার, কনসোর্স ছাদ, প্লাটফর্ম ছাদ এবং স্টিল রুফ স্টাকচার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৯টি স্টেশনে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড প্লাম্বিংয়ের কাজ এবং এন্ট্রি-এক্সিট স্ট্রাকচার নির্মাণ কাজ চলমান আছে। এই প্যাকেজ দুটির সমন্বিত বাস্তব অগ্রগতি ৮৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

প্যাকেজ-৫ (আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ৩ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার ও ৩টি স্টেশন নির্মাণ কাজ): এই প্যাকেজের বাস্তব কাজ ২০১৮ সালের এক আগস্ট শুরু করা হয়েছে। উত্তর ডিপো এলাকায় নির্মাণাধীন মেট্রোরেল এক্সহিবিশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ৩ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের মধ্যে ২ দশমিক ৬৫০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে। এই প্যাকেজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।

প্যাকেজ-৬ (কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৯২২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৪টি স্টেশন নির্মাণ): এই প্যাকেজের বাস্তব কাজ ২০১৮ সালের এক আগস্ট শুরু করা হয়েছে। কারওয়ান বাজার হতে শাহবাগ পর্যন্ত এবং রাজু চত্বর হতে শাপলা চত্বর পর্যন্ত ভায়াডাক্টের ওপর ওসিএস ম্যাস্ট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ৪ দশমিক ৯২২ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের মধ্যে ৪ দশমিক ১০৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে। এই প্যাকেজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

প্যাকেজ-৭ (ইলেকট্রিক্যাল এন্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম): ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম সরবরাহ ও নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের জুলাই হতে শুরু হয়েছে। এই প্যাকেজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

প্যাকেজ-৮ (রোলিং স্টক রেল কোচ) ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ): এই প্যাকেজের বাস্তব কাজ ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। এই প্যাকেজের বাস্তব অগ্রগতি ৫৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘প্রকল্পটি খুব ভালভাবেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্ধারিত মেয়াদের আগেই এটির নির্মাণ শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী বছর ডিসেম্বর মাসে প্রথম অংশ চালু হতে পারে। আমারাও আশাবাদী মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই ঢাকাবাসীর স্বপ্নের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’