কাঁচকলার ৭ গুণ

কাঁচকলা ভিটামিন, মিনারেলসহ আরও অনেক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সবজি। মাত্র ১০০ গ্রাম কাঁচকলায় ক্যালরি থাকে ৮৩ গ্রাম। তাই শরীরের ক্ষয় পূরণে এবং কর্মক্ষমতা বাড়াতে খেতে পারেন কাঁচকলা। পটাশিয়ামের উৎস: কাঁচকলার পটাশিয়াম স্নায়ু ভালো রাখতে ও মাংশপেশির কর্মক্ষমতাকে সচল রাখতে কাজ করে। তাই নিয়মিত কাঁচকলা খেলে মাংসপেশিতে জড়তাজনিত রোগ সহজেই এড়ানো যায়।

আসুন জেনে নেয়া যাক কাঁচকলার কিছু স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ:

ওজন নিয়ন্ত্রণে
ওজন কমাতে চাইলে, খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন কাঁচকলা। কাঁচকলার ফাইবার অনেকটা সময় পেট ভরিয়ে রাখে। এটি আঁশযুক্ত হওয়ায়, মেদ কমাতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্যেও কাঁচকলা উপকারী। এটি আঁশযুক্ত হওয়ায় রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ভিটামিন বি৬ গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে টাইপ-টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

হৃদরোগে উপকারী
কাঁচকলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন ৪,৭০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম গ্রহণে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস হয়। তবে পটাসিয়াম সবার জন্য নিরাপদ নয়। উচ্চ রক্তচাপ অথবা কিডনির রোগে আক্রান্ত রোগীদের পক্ষে তাই কাঁচকলা খাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত।

ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রনে রাখে
কাঁচকলা আঁশযুক্ত সবজি হওয়ায় এটি খুব সহজে হজম হয়। কাঁচকলা পেটের ভিতরের দূষিত ব্যাকটেরিয়া দূর করে দেয়।

হাড় শক্ত করে
কাঁচকলায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস দেহের হাড় মজবুত এবং হাড় ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।

খাদ্যশক্তিতে ভরপুর
উচ্চ ভিটামিন বি-৬ এর উৎস কাঁচকলা। ভিটামিন বি-৬ রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, যা রক্তে অক্সিজেন পরিবহন করে। এছাড়া ভিটামিন বি-৪ রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। কাঁচকলায় থাকা খাদ্যশক্তি দেহের দূর্বলতা কাটিয়ে সবল করে তোলে। রোগীদের জন্য দারুণ পথ্য হিসেবে কাঁচকলার সুনাম রয়েছে।

পেট ভালো রাখে
কাঁচকলায় থাকে এনজাইম, যা ডায়রিয়া এবং পেটের নানা ইনফেকশন দূর করে। তাই ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকেরা কাঁচকলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

১০০গ্রাম কাঁচা কলায় রয়েছে
প্রোটিন১.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিগ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৪.০ গ্রাম, ফসফরাস ২৯ মিগ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ৩০ আই.ইউ, লৌহ ৬.২৭ মিগ্রাম, ফ্যাট ০.২ গ্রাম, আঁশ ০.৭ গ্রাম, পটাশিয়াম ১৯৩ মিগ্রাম, অক্সালিক এসিড ৪৮০মিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ২৪ মিগ্রাম, রিবোফ্লেবিন .০২ গ্রাম, থায়ামিন .০৫ মিগ্রাম। সূত্র: ফুড ব্লগ