৩৩ নয় ৪০ এ পাশ

0
91

পাবলিক পরীক্ষায় পূর্ণমান ১০০-এর বিপরীতে পাস নম্বর নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৪০। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষাল ফল প্রকাশের পদ্ধতিতেও আনা হচ্ছে পরিবর্তন। বর্তমান গ্রেডিং সিস্টেম যুগোপযোগী করে সর্বোচ্চ ফল (গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ-জিপিএ) ৫ এর পরিবর্তে ৪ নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ‘এ প্লাস’ বলতে কিছু থাকবে না। পরীক্ষার ফলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সমতা রাখতেই এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এটি নিয়ে কাজ করছেন বর্তমানে। আগামী ২৬ জুন এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পেশ করবেন তারা। গত ১২ জুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির উপস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সব শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানই উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সভায় পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
সভা সূত্র জানায়, পাবলিক পরীক্ষার পাস নম্বর ও ফল প্রকাশ নিয়ে সভায় বিশদ আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সভায় বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাই জিপিএ ৫ এর জন্য ছুটছে। অথচ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই জিপিএ ৪ এর মধ্যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি এ বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানান। এর পরই এ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।
আগামী ২৬ জুন আবারও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর সভা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান কয়েকজন বোর্ড চেয়ারম্যান।
পাস নম্বর বাড়ানোর ভাবনা কেন- জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শিক্ষার মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠায় মূলত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে বলার চেষ্টা করে হচ্ছে- দেশে শিক্ষার মান পড়ে যাচ্ছে। তবে এ তথ্য সঠিক নয় বলেই সরকার মনে করে। এ জন্য পাস নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পৃথিবীর বহু উন্নত দেশে পাস নম্বর ৪০ নির্ধারিত রয়েছে।’
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘বর্তমান পদ্ধতির পরিবর্তন খুব জরুরি। এমসিকিউ, সিকিউ ও সৃজনশীল মিলে একই বিষয়ে তিনজন পরীক্ষক তিন রকম নম্বর দিচ্ছেন। তা যোগ হয়ে ফল তৈরি হচ্ছে। এটি সঠিক নয়। একটি গ্রেড পয়েন্ট থেকে অপর পয়েন্টের মধ্যে নম্বরের পার্থক্য খুব বেশি থাকায় আমার নিজের ছেলেও জিপিএ ৫ পায়নি।’

LEAVE A REPLY