স্মার্টফোনে শুল্ক ও কর ১০ শতাংশ নির্ধারণের দাবি বিএমবিএর

0
58

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) সভাপতি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু জানিয়েছেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্টফোন আমদানির ওপর আরোপিত বর্ধিত শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করে পূর্বের ন্যায় শুল্ক ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা না হলে এ খাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হবে।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএমবিএ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি এসব কথা জানান।

নিজাম উদ্দিন জিটু জনান, ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার স্মার্টফোন; যার ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের ফলে স্মার্টফোন আমদানিতে মোট করের পরিমাণ প্রায় ৩১.৭৫%; প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক ১০% থেকে ২৫% করার ফলে সর্বমোট করের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫৭.৩১% ফলশ্রæতিতে আমদানিকৃত স্মার্টফোনের মূল্যবৃদ্ধি পাবে।
এ সময় তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অবৈধ মোবাইল সেটের সংখ্যা ৩০ মিলিয়ন তথা ৩ কোটি। একটি স্মার্টফোনের আমদানি শুল্ক ৩ হাজার টাকা ধরলে শুধু এই অবৈধ মোবাইল সেটের কারণে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। স্মার্টফোন আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে অবৈধ আমদানি আরও উৎসাহিত হবে এবং দেশের বাজারে অবৈধভাবে ব্যাপকহারে স্মার্টফোন সরবরাহ বেড়ে যাবে ও বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার হতে পারে। এতে করে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বর্ধিত করারোপের ফলে আমদানি কমে যেতে পারে ও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সরকার অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। সেইসঙ্গে বিদেশি কোম্পানিগুলোও মোটা অঙ্কের বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে।

বিএমবিএর সভাপতি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- বিএমবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, সহসভাপতি মো. হোসেন হায়দার হিরু, এফবিসিসিআই সাধারণ পরিষদের সদস্য ও বিএমবিএর সহসভাপতি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন পরান, সিনিয়র সদস্য মেজবাহুর রহমান ভূঁইয়া রতন প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রদেয় স্মার্টফোন কর ৩১.৭৫% হতে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী কর হবে ৫৭.৩১%; যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৯০% বেশি এবং বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি।তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনে ডিজিটাল বাংলাদেশের বিকল্প নেই। ডিজিটাল সমাজ গঠনের প্রধান হাতিয়ার স্মার্টফোন। স্মার্টফোনে শুল্ক-করাদি কমানোর মাধ্যমে ডিভাইসটি আরো সহজলভ্য করার দরকার ছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্টফোনের উপর অধিক হারে করারোপ করা হয়েছে। যা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন ও স¤প্রসারণ ব্যাহত করবে। যা প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
তারা বলেন, দেশে সংযোজিত স্মার্টফোন চাহিদার ৩ থেকে ৫ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম। এ খাতে সরকার মূসক, আমদানি শুল্কসহ প্রায় ৪৫.৭৫ শতাংশ শুল্ক কর সুবিধার প্রস্তাব করেছে প্রস্তাবিত বাজেটে। আমরাও বিশ্বাস করি এদেশে স্মার্টফোনের কারখানা স্থাপিত হলে একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতি অধিক সমৃদ্ধ হবে, সেইসঙ্গে ব্যাপক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে। কিন্তু কারখানা স্থাপন তথা বিদেশি বিনিয়োগের জন্য হুয়াওয়ে, শাওমি, অপ্পো, ভিভোসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কমপক্ষে আরও ২ বছর সময়ের প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY