রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার জেল জীবন

0
203

রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা বর্তমানে কাশিমপুর-২ কারাগারে আছেন। দুই মাস আগে তাকে কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে কাশিমপুর-২ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় সেখানে অনেক বন্ধু হয়েছে তার, যাদের সঙ্গে গল্প ও হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটে রানার। তবে পরিবারের সদস্যরা আগের মতো তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন না।
মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) কাশিমপুর-২ কারাগারের জেলার তরিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রতিবেদকের। তিনিই এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘অনেকদিন ধরে কারাগারে থাকায় সোহেল রানা কারাগারের নিয়মকানুনে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। অনেক বন্দির সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়েছে। তাদের সঙ্গে গল্প, হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটান তিনি।’
তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সোহেল রানা নামাজও পড়েন। জেলের অনেকে এখানে তার সঙ্গে নামাজও পড়েন।’
রানা প্লাজা ধসে এত সংখ্যক শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য সোহেল রানা অনুতপ্ত। প্রায়ই কারারক্ষীদের কাছে তিনি অনুতাপের কথা বলেন বলেও জানিয়েছেন জেলার।
তবে সোহেল রানার সঙ্গে বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরা কম দেখা করতে আসেন। তার মা আগে প্রতি সপ্তাহে দেখতে আসতেন। তিনি গুরুতর অসুস্থ বলে এখন তাকে তেমন কেউ দেখতে আসেন না। তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে শুনতাম তার মা নিয়মিত দেখা করতে আসতেন। তবে এখন আর তিনি আসেন না। শুনছি তিনি নাকি অসুস্থ।’
কারাগারে সোহেল রানার পিসি (প্রিজন কার্ড) কার্ড করা রয়েছে। এই কার্ডে নিয়মিত টাকা জমা হয়, যা দিয়ে তিনি কারাগারে নিয়মিত খাবার কিনে খান বলেও জানান জেলার।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ৯ তলা বিশিষ্ট ওই ভবনে গার্মেন্টস করখানাসহ ১০০-এর বেশি দোকান ছিল। এ দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৭৫ শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় দু’হাজারের বেশি শ্রমিককে।
এই ঘটনায় তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে অবহেলাজনিত মৃত্যু চিহ্নিত করে হত্যা মামলাটি করে পুলিশ। ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে অপর মামলাটি করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে আরেকটি মামলা করে।
তিন মামলাতেই সোহেল রানা আসামি। তার বিচার চলছে। অপর আসামিরা সবাই জামিনে রয়েছেন। সোহেল রানা একমাত্র আসামি যিনি এই ঘটনার পর থেকে কারাগারে আছেন।

LEAVE A REPLY