যে কারনে মান্নার ” আম্মাজান ” হতে চাননি শাবানা

যে কারনে মান্নার ” আম্মাজান ” হতে চাননি শাবানা

0
59

২০ বছর আগে আজকের দিনে (২৫ জুন) মুক্তি পেয়েছিলো ছবিটি। এই উপলক্ষ্যেই ছবিটি নিয়ে কথা বলেছেন নির্মাতা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শ্রদ্ধেয় অভিনেত্রী শবনম এই ছবিতে আম্মাজান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন তিনি। মুগ্ধ করে দিয়েছেন দেশের দর্শকদের। এতগুলো দিন পেরিয়েও শবনম ‘আম্মাজান’ হিসেবে সবার মনে অন্যরকম জায়গা নিয়ে আছেন।

তবে মজার বিষয় হলো আমি প্রথমে ছবিটিতে আম্মাজান চরিত্রে আমাদের কিংবদন্তী শাবানাকে চেয়েছিলাম। তাকে মেকাপ রুমে বসে ছবির গল্পটাও শুনিয়েছিলাম। ছবির গল্প শুনতে শুনতে কেঁদেছিলেন শাবানা।

ছবির জন্য শিডিউল দেবেন বলেন কথাও দিয়েছিলেন। কথা বলে আসার পরের দিন হঠাৎ করেই উনি না করে দিলেন।

আমাকে ডেকে বললেন, ‘হায়াৎ আমার ছবিটা করা হবে না। আমি বললাম কেন? উনি বললেন, এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইবেন না। শুধু শোনেন আমি যাদের সঙ্গে নায়িকা হচ্ছি তারা কেউ চায় না আমি এই ছবিতে অভিনয় করি। তারা আপত্তি জানিয়েছে বলেছে, ‘আপনি যদি মান্নার মা হন, তাহলে আমাদের সঙ্গে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করবেন কীভাবে!

আপনি সব সময় আদর্শ মহিলার চরিত্রে অভিনয় করেন, কেন হঠাৎ ধর্ষিতা মহিলার চরিত্রে অভিনয় করবেন?’ আমি বললাম সব যুক্তিই এই গল্পর কাছে হার মানবে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি আর। শাবানার ইচ্ছে থাকার পরেও এই ছবিতে অভিনয় করা হয়নি তার।’

এরপর ছবিতে শবনমকে নেওয়ার গল্পও শোনালেন কাজি হায়াত। তিনি বলেন, ‘শাবানা না করে দেওয়ার পরে সেই সময়ের সাংবাদিক আজাচৌ, ফটোগ্রাফার বেলাল, আওলাদ হোসেন আমাকে পরামর্শ দিলেন মায়ের চরিত্রে শবনম ম্যাডামকে নেওয়ার ব্যাপারে। শবনম ম্যাডামকে গল্প শোনালাম। উনি একবাক্যে রাজি হয়ে গেলেন।’

কাজী হায়াত বলেন, ‘আরও মজার গল্প আছে ছবিটি নিয়ে। এই ছবির প্রযোজক ছিলেন ডিপজল। উনি সেন্সর হওয়ার পর ছবি দেখে বললেন ছবিটা চলবে না। কারণ হিসেবে বললেন এই ছবিতে তো কোনো অ্যাকশন নেই। আমি বললাম, অ্যাকশন নাই মানে! মারামারি করাই কি শুধু অ্যাকশন।

ছবিটিতে নায়ক হিসেবে মান্নাকে নিতেও আপত্তি জানিয়েছিনে প্রযোজক ডিপজল। তাদের মধ্যে সেই সময় সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিলো। হুমায়ূন ফরিদিকেও নেওয়ার কথা হয়েছিলো। এর আগেই আমার অনুরোধে মান্না সম্পর্ক ভালো করে ফেললো ডিপজলের সঙ্গে, অনেকটা নিজে পরাজয় স্বীকার করেই। পরে ডিপজল নিজেই মান্নাকে নিলো।’

কালজয়ী এই ছবি মুক্তি পেতেও নানা ঘাত প্রতিঘাত পার করেছে। কাজী হায়াত বলেন, ‘ছবিটা ছয় মাস সেন্সরে আটকে ছিলো। কী কারণে আটকে রাখা হয়েছিলো আজও আমি বুঝতে পারিনি। একটি ছবি বিভিন্ন কারণে আটকানো হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তদবির করে এই সিনেমার মুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন ডিপজল।

৪০ বছরের চলচ্চিত্র জীবনে প্রতিনিয়ত আমি বিভিন্ন তীর দ্বারা বিদ্ধ হয়েছি। চলচ্চিত্রের মানুষদের কাছে হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, ঈর্ষার তীরে আমি জর্জরিত হয়েছি।’

সফলতার গল্পটি কেমন? কাজী হায়াৎ বলেন, ‘ছবির ৬০টা প্রিন্ট করা হয়েছিলো। আমার জীবনের মিরাকেল এই ছবিটি। এটা যেদিন মুক্তি পায় তার আগের দিন টেবিল মানি ও গান বিক্রি করে ছবির প্রযোজক ১ কোটি চার লক্ষ টাকা নিয়ে ঘরে ফিরতে পেরেছিলো।

ছবির খরচ ছিলো ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা। মুক্তির আগে ২ লাখ টাকা লাভ হয়েছিলো। আর ‘আম্মাজান’ মুক্তির পরের কথা তো সবার জানা। মাসের পরে মাস হলে চলেছে। ছবিতে আইয়ূব বাচ্চুর গাওয়া ‘আম্মাজান’ গানটি পানির স্রোতে মতো ভাসিয়ে নিয়ে গেল দর্শক-শ্রোতাদের।

বাংলাদেশে কালজয়ী ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হয়ে আছে ‘আম্মাজান’, এটা আমার গর্ব।’    ফুলকি

LEAVE A REPLY