বিশ্বের সবচেয়ে ১০ টি ধনী পরিবার

0
32

বিভিন্ন জরিপ আর ম্যাগাজিনের কল্যাণে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের নামধাম, সম্পদের হিসাব সবকিছুই জানা আমাদের। কিন্তু ব্যক্তিগত সফলতা ছাপিয়ে পুরো পরিবারকে নিয়েই সফল হয়েছেন যারা এমন কারও খোঁজ কি রাখি আমরা? সারাজীবন পরিশ্রম করে সম্পদের পাহাড় গড়া অবশ্যই কঠিন কাজ। কিন্তু সেসব সম্পদ রক্ষা করার জন্য যোগ্য উত্তরসূরি তৈরি করা এবং বংশানুক্রমিকভাবে সম্পদ ধরে রাখা তার চেয়েও কঠিন কাজ। যেসব মানুষের সন্তানেরা যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে পিতার ব্যবসা ধরে রাখতে পেরেছে, পরবর্তীতে তারাই বিশ্বসেরা হয়েছে সেরকম ১০টি পরিবার নিয়েই এই প্রতিবেদন-
ওয়াল্টন
যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিবার বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী পরিবার। বিশ্ববিখ্যাত রিটেইল শপ ‘ওয়ালমার্ট’-এর মালিক এরাই। সারা বিশ্বের ২৭টি ভিন্ন ভিন্ন দেশে ১১ হাজারেরও বেশি শাখা আছে ওয়ালমার্টের। তাদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। ১৯৬২ সালে স্যাম ওয়ালমার্টের প্রথম শপটি চালু করেন। বর্তমানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দিলে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে। তাদের কর্মীর সংখ্যা ২০ লাখেরও বেশি।
মার্স
এই পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস চকলেট ও ক্যান্ডি। প্রতিষ্ঠাতা ফ্রাঙ্কলিন ১৯১১ সালে সর্বপ্রথম এই ব্যবসা শুরু করেন। ১৯২৯ সালে এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেয় তার সন্তান ফরেস্ট। তার সময়কালে বিশ্ববিখ্যাত চকলেট ‘মার্স বার’ এবং ‘মিস্টার এন্ড মিসেস’ প্রক্রিয়াজাত শুরু হয়। তার তিন সন্তান ফরেস্ট জুনিয়র, জ্যাকুলিন এবং জন বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক। শুধু মানুষের খাবারই নয়, কুকুরের খাবারের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড পেডিগ্রি কোম্পানির মালিকও এই মার্স পরিবার। মার্স পরিবারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা। সম্পত্তির নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মার্স পরিবার।
কচ
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহৎ বেসরকারি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ‘কচ ইন্ডাস্ট্রি’র মালিক এই পরিবার। এদের আয়ের উৎস তেল, রিয়েল এস্টেট, র্যাঞ্চিং, কেমিক্যাল, সার ইত্যাদি। প্রকৌশলী ফ্রেড সি কচ এই সম্পদের ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৯৪০ সালে তিনি একটি তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠা করেন। এটি পরবর্তীতে খুব শক্তিশালী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে পরিণত হয়। তাদের পরিবারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। সম্পদের হিসেবে তাদের অবস্থান তৃতীয়।
আল সৌদ
সমগ্র সৌদি আরবের অর্ধেকের চেয়েও বেশি পরিমাণ সম্পদের মালিক সৌদি রাজপরিবার। সেই অষ্টাদশ শতক থেকে সৌদি আরব শাসন করছে এই পরিবার। ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে তাদের সম্পদের পাহাড়। এই সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস তেলের খনি। এছাড়াও আয়ের উৎস হিসেবে আছে জায়গা, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, মূল্যবান ব্যবসায়িক চুক্তি ইত্যাদি। সৌদি আরবের রাজ পরিবারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৭ লাখ ১১ হাজার ৪২০ কোটি টাকা।
শানেল
সম্পদের হিসেবে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্সের শানেল পরিবার। মূলত ফ্যাশনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এই পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা।
হার্মেস
পোশাক, জুয়েলারি, ঘড়ি, সুগন্ধী, লেদারের সামগ্রী তৈরি করে প্যারিসের এই প্রতিষ্ঠানটি ১৮৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা থিয়েরি হার্মেস। হার্মেস পরিবারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা।
অ্যানহিউসার-বাস্ক
সংস্থাটি যৌথ উদ্যোগে পরিচালনা করে ভ্যান ডম, ডি স্পোয়েলবার্ক, ডি মেভিয়াস পরিবার। এটি একটি বিয়ার প্রস্তুতকারক সংস্থা। তাদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা।
বোহেরিংগার
এটি একটি জার্মান ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবসা চালায় বোহেরিংগার এবং ভন বমব্যাক পরিবার। তাদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২২৬ কোটি টাকা।
আম্বানি
১৯৫৭ সালে রিলায়্যান্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল ধীরুভাই আম্বানীর হাত ধরে। তার মৃত্যুর পর ব্যবসা সামলান দুই ছেলে মুকেশ ও অনিল অম্বানী। সম্পত্তির হিসেবে এই পরিবারের স্থান নবম। মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।
কারগিল
এই পরিবারে ১৪ জন বিলিয়নিয়ার সদস্য আছে। সংখ্যার দিক থেকে এই পরিবারেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিলিয়নিয়ার আছে। খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ তাদের আয়ের উৎস। ১৮৬৫ সালে উইলিয়াম ওয়ালেস কারগিলের হাত ধরে কারগিল ইনকর্পোরেটেডের যাত্রা শুরু হয়। ১৯০৯ সালে এই প্রতিষ্ঠানের সব সম্পত্তি তার চার সন্তানের মাঝে ভাগ করে দেন তিনি। সন্তানরাও বাবার মতো পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরো দূরে নিয়ে যায়। এখন এই কোম্পানিটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানির মাঝে একটি। তাদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩ লাখ ৫ হাজার ১৯৯ কোটি

LEAVE A REPLY