প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে শামীম,মাঠে নেই বিএনপি

0
96

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার সমর্থকরা। প্রতিদিনই সিদ্ধিরগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ডে কেন্দ্রভিত্তিক প্রচার চালাচ্ছেন তার কর্মী-সমর্থকরা। অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মনির হোসেন কাসেমীর পক্ষে তৎপর নন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম। বিগত সময়ে এমপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর কাছে পরাজিত হন তিনি। পরাজিত হওয়ার পর ফতুল্লা থানা বিএনপি সভাপতির দায়িত্ব পান। এরপর থেকে দলকে সংগঠিত করতে নিরলস ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। আর দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশা নিয়ে শাহ আলম কেন্দ্রীয়ভাবে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে আসছিলেন।

একই আসনে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন দলীয়ভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে শীর্ষ মহলে দৌড়ঝাঁপ চালান।

তফসিল ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলীয়ভাবে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শাহ আলমকে। আর গিয়াস উদ্দিন দলীয় মনোনয়নের চিঠি না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। হঠাৎ বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের বাদ দিয়ে ঐক্যফ্রন্ট থেকে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমিকে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়। একজন অপরিচিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় রাগে ক্ষোভে কাসেমির পক্ষে বিএনপির কেউ মাঠে নামছেন না বলে বিএনপির অনেক নেতাই জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মধ্যে ফতুল্লা থানা এলাকা বিএনপির ঘাঁটি হলেও নির্বাচনী মাঠ এখনও আওয়ামী লীগের দখলে। বিএনপি নেতাকর্মীরা কাসেমীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নামছেন না। শুধু রাস্তায় পোস্টার ও মাইকিং করা ছাড়া ধানের শীষের মাঠ শূন্য। দেখে মনে হচ্ছে না নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমানের আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী নির্বাচন করছেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূলত দু’টি কারণে আমরা এখনও প্রচার শুরু করতে পারছি না। প্রথমত নারায়ণগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা এখনো চলছে। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরি হয়নি। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট থেকে যে প্রার্থীকে মনোনীত করা হয়েছে, তিনি আমাদের দলের নেতাকর্মীদের কাছেই ওইভাবে পরিচিত নন। যার কারণে দলের সবার সাথে তার পরিচিত হতে কিছুটা সময় লাগছে। আর এ কারণেই মূলত আমরা প্রচার শুরু করতে পারছি না।

জমিয়তে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলার সেক্রেটারি মাওলানা ফেরদৌস জানান, বর্তমানে আমাদের প্রচার চলছে ফতুল্লা থানা এলাকায়। আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই এলাকায় আমাদের প্রচার চলবে। তার পরে আমরা সিদ্ধিরগঞ্জে প্রচার চালাব।

বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিএনপির এই আসনের সব নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। খুব শিগগিরই আমরা তাদের নিয়ে আমাদের দলকে জয়ী করার লক্ষ্যে প্রচার শুরু করব।

এ বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, সারাদেশেই বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা হচ্ছে। আর আমার নির্বাচনী এলাকাও এর বাইরে নয়। নারায়ণগঞ্জেও হামলা মামলার ভয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে থাকতে পারছে না। যারা আমার সঙ্গে জনসংযোগে মাঠে নামছে তাদের তালিকা করে বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী পুলিশের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছে না। ভোটের সময় ঠিকই নেতাকর্মীরা ভোট দিয়ে বিপ্লব ঘটাবে।

এদিকে সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, আমরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ধানের শীষের ভোটার আছে এই এলাকায়। তবে এ আসনে বিএনপি জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রার্থী বাদ দিয়ে অচেনা একজন লোককে কীভাবে প্রার্থী দিল এবং নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে তিনি কতটুকু কী করতে পারবেন, এটাই দেখার বিষয়। তারপরও আমরা প্রার্থী হিসেবে তাকে ছোট করে দেখছি না।

LEAVE A REPLY