যত টুকু না হলেই নয়, তার অতিরিক্ত কোন ভোগ্যপন্য কিন বেন না,মজুত করবেন না, সিমিত আয়ের মানুষ গুলোকে কেনার সুযোগ করে দিন-শেখ হাসিনা

0
24

স্টাফ রিপোর্টার ঃ করোনা ইস্যুতে ২৬ শে মার্চ হতে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত সরকার ছুটি ঘোষনা করেছেন। দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সরকার যে কোন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুুত এবং সকলকে আহ্বান করেছেন আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে। এই ছুটি দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র মানুষ যেন ঘর হতে বেড় না হয়ে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, কিন্তু লম্বা ছুটি পেয়ে মঙ্গলবার হতেই মানুষ নিজ গ্রামে ছুটছেন।

এ দিকে প্রধানমন্ত্রী তার গুরুত্বপূর্ন ভাষনে বলেছেন ভাইরাস রোধে আপনারা যেখানে আছেন সেখানেই অবস্থান করুন করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশ ম্যাডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ ৫০০ চিকিৎসকের তালিকা প্রদান করেছে যারা জসগণকে সেবা প্রদান করবে। তিনি বলেন বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় নিশ্চয় বিশ্ববাসী এই সংক্রামক রোগ হতে দ্রুত পরিত্রান পাবে। এই সংকটময় সময় আমাদের সহনশীল ও সংবেদনশীল হতে হবে, কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বাজারে কোন পন্যের ঘাটতি নেই দেশের অভ্যন্তরে ও বাহিরের সঙ্গে সরবরাহ চেইন অটুট রয়েছে। কেও অযুক্তিকভাবে নিত্য প্রয়োজনীর দাম বৃদ্ধি করবেন না,জনগনের দূর্ভোগ বাড়াবেন না। যত টুকু না হলেই নয় তার অতিরিক্ত কোন ভোগ্যপন্য কিন বেন না,মজুত করবেন না, সিমিত আয়ের মানুষ গুলোকে কেনার সুযোগ করে দিন। আমরা খাদ্য উৎপাদনে সয়ং সম্পূন্ন, এ বছর রোপা আমনে বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারের মজুত সহ বেসকারী প্রতিষ্ঠান মারিকদের কাছে যথেষ্ট পরিমান খাদ্যের মজুত আছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের প্রতি জানান কোন জমি ফেলে রাখেবেন না আরো বেশি বেশি ফলন ফলান,দূর্যোগের সময় মনুষত্বের পরিক্ষা হয়।

এখনই সময় পরস্পরকে সহায়তা করা। ১৯৭১ সালে আমারা কাধে কাধ মিলিয়ে শক্রুর সাথে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছি, করোনা ভাইরাস মোকাবেলাও একটা যুদ্ধ এই যুদ্ধে আপনার দায়িত্ব ঘরে থাকা,আমরা সকলের প্রচেষ্টায় এই যুদ্ধে জয়ী হবে ইনশাল্লাহ।

সরকারী ছুটির আওতায় সিমিত সময়ের জন্য সকাল ১০টা হতে ১২ পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকবে। সরকারী বেসরকারী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ হতে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধের বর্ধিত করা হয়েছে। এনজিও সংস্থা গুলোও আগামী ৬ মাস ব্যাংকে ঋন জমা দিতে হবে না এবং যে সকল সদস্য এনজিও সংস্থা হতে ঋন গ্রহন করেছে, সে সকল ব্যাক্তিদের আগামী ৬ মাস ঋন পরিশোধ করতে হবে না পরবর্তি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তিনি প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন কোন মানুষ যেন না খেয়ে থাকেন। এই ভাইরাসের কারনে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছে তাদের পাশে দাড়াতে হবে,নি¤œ আয়ের ব্যাক্তিদের ঘরে ফেরার কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহয়যতা প্রদান করা হবে। গৃহহীন ও ভুমিহীনদের জন্য বিনামুল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য ও নগদ অর্থ প্রধান করা হবে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাষা অঞ্চলে ১লাখ লোকের থাকার ও কর্মসংস্থান উপযোগী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে,সেখানে কেও যেতে চাইলে সরকার ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

বিনামূলে ভিজিটি এবং বিজিএ ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবারহ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। শিল্প উন্নয়ন ও রপ্তানি বানিজ্যের উপর আঘাত আসতে পারে এই আঘাত মোকাবেলায় কিছু আপতকালীন ব্যবস্থ্যা করা হয়েছে সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হবে এই টাকায় প্রতিষ্ঠান গুলোর শ্রমিকদের বেতন দেওয়া যেতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী জুন মাস মাস পর্যন্ত কোন গ্রাহকে ঋন খেলাপী না করার ঘোষনা দিয়েছে। সেই সাথে পরিশোধকমুলক টাকা সময় সিমা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং যে কোন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

এ সরকার জনগনের সরকার তাই সব সময় সরকার জনগনের পাশে থাকবে এমনটি প্রত্যয় ব্যাক্ত করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাইরাস মোকাবেলায় তিনি পুলিশ বাহিনীর পাশপাশি শসস্ত্র বাহিনী নামিয়েছেন যেন দেশের মানুষ গুলো নিরাপদে থাকেন সেইসাথে গণ পরিবহন সহ রেলপথ স্থল পথ ও অভন্তরিন বিমান পথ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তবে খাবারের গাড়ী,তৈল বহনকারী গাড়ী ও জরুরী এ্যামবুলেন্স চলাচল করতে পারবে। ফার্মেসী,জরুরী সেবা কাযক্রম তথা হাসপাতাল,কাঁচা বাজার গুলো খোলা থাকবে। আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সচেতন থাকার পরামশ্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তথা বাংলাদেশে সরকার তাই এই ১০ দিন ছুটি নিজেকে হোম কোয়ারান্টানয়ে রাখুন তাহলেই এই সংক্রামক ব্যাধি হতে রক্ষা পাওয়া অনেকটাই সম্ভব।

তিনি আরো বলেন আক্রান্ত ব্যাক্তিদের চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কর্মিদের সরবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করতে হবে। তাদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে এবং যথেষ্ট পরিমান সরঞ্জাম মজুত আছে এবং ব্যাক্তিগত সুরক্ষার সামগ্রীও মজুত আছে। এব্যাপারে বিভ্রান্ত না হওওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী সেই সাথে স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার সরঞ্জামও পর্যাপ্ত আছে। তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাস বিস্তার রোখে প্রশাসন স্বাস্থ্যকর্মি ও সশস্ত্রবাহিনী একযোগে কাজ করে যাওয়ার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন কেউ যেন গুজব না ছড়ায়,গুজর রটানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY