তৎপর দুই দলের দেড়শ’ নারী

0
207

প্রেস বিডি প্রতিবেদক : আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নামতে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন আসনেই কয়েকশ’ নারী প্রার্থী নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। বেশিরভাগই দিন-রাত নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়েছে অনেক এলাকাই। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এসব নারী প্রার্থীর শোডাউন, উঠান বৈঠক এবং নির্বাচনী সভা-সমাবেশও নির্বাচনের মাঠে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

জাতীয় সংসদে ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৫০ টি আসন রয়েছে নারীদের জন্য সংরক্ষিত। বাকি ৩০০ আসনে রাজনৈতিক দল গুলো প্রার্থী মনোনয়ন দেন। সংবিধানে নারীদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসন আরো ২৫ বছরের জন্য বহাল রাখার আইন রয়েছে। কিন্তু এখন অনেক নারীই বলছেন, অনেক প্রতিকূলতা থাকা সত্বেও তারা চান, দলের মনোনয়ন নিয়ে সরাসরি নির্বাচনে মাধ্যমেই সংসদ সদস্য হতে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে গত তিন দশক ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন দুই নেত্রী শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া। দুই নেত্রীর সাফল্যই নারীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পুরুষ প্রার্থীদের পাশাপাশি অনেক নারী প্রার্থী এবার মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বলছেন, দলের পক্ষ থেকে যোগ্য নারীদের মনোনয়ন দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণের সময় এসেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকারবিরোধী প্রধান দল বিএনপি থেকে এবার সম্ভাব্য নারী প্রার্থীর সংখ্যা অধিক। আওয়ামী লীগ থেকে শতাধিক নারী নির্বাচনের মাঠে তৎপর রয়েছেন। বিএনপি থেকে অর্ধশতাধিক নারী দলের মনোনয়ন চেয়ে মাঠ দাপাচ্ছেন। জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল থেকেও কমবেশি নারী মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।

নারী মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে সিংহভাগই সংশ্নিষ্ট দল ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কেন্দ্রীয় অথবা তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে রয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর এসব নারীনেত্রী এবার দলের কাছে এমপি মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছেন। যাদের মধ্যে অনেকে আবার বর্তমান সংসদের সরাসরি নির্বাচিত অথবা সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবেও রয়েছেন। সাবেক এমপিদের বেশিরভাগই আবার নিজ নিজ দলের মনোনয়ন চাইছেন। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তথা সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান, মেয়র ও কাউন্সিলর পদে দায়িত্ব পালন করছেন- এমন বেশ কয়েকজন নারীও এমপি হওয়ার প্রত্যাশা থেকে মাঠে নেমেছেন। এ ছাড়া দলীয় রাজনীতির বাইরেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সমমনা সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা নারীরাও নিজ নিজ মতাদর্শের দলগুলো থেকে প্রার্থী হতে চাইছেন। এ ক্ষেত্রে আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং চলচ্চিত্র, নাট্য ও সঙ্গীত জগতের তারকাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের প্রাধান্য দেখা গেছে।

দশম সংসদে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত নারী এমপির সংখ্যা ১৯। এ ছাড়া ৫০ জন সংরক্ষিত নারী এমপির মধ্যে আওয়ামী লীগের কোটায় রয়েছেন ৪২ জন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ সরাসরি নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী এমপিদের অনেকেই রাষ্ট্র ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নারীর ক্ষমতায়নে আরও নারীকে নির্বাচনে অংশীদারিত্ব দেওয়ার তাগিদও রয়েছে ক্ষমতাসীন দলে। ফলে গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এবারও সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে নারীদের মনোনয়ন দেওয়ার কথা ভেবে রেখেছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হিসেবে বিবেচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ নেতাদের মধ্যে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজন (একজন সংরক্ষিত) নারী এমপি রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান এমপি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সরাসরি মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী (ফরিদপুর-২), কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী (শেরপুর-২), অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (ঢাকা-১৮), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি (চাঁদপুর-৩), কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি (গাজীপুর-৪) এবং মন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা-৩)। দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজ আসন গোপালগঞ্জ-৩ ছাড়াও আরও একটি আসন (এখনও প্রকাশ করা হয়নি) থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। বাকিরা নিজ নিজ আসনে আবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছেন। আর সংরক্ষিত আসনের এমপি ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা চেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন।

অন্যদিকে রংপুর-৬ আসনের এমপি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী একই আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ থেকে সরাসরি নির্বাচিত অন্য নারী এমপিদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি (গাজীপুর-৫), জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক (যশোর-৬), মাহাবুব আরা বেগম গিনি (গাইবান্ধা-২), জেবুন্নেছা আফরোজ হীরণ (বরিশাল-৫), রেবেকা মোমিন (নেত্রকোনা-৪), কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম (মানিকগঞ্জ-২), সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি (মুন্সীগঞ্জ-২), জয়া সেনগুপ্তা (সুনামগঞ্জ-২), সৈয়দা সায়রা মহসীন (মৌলভীবাজার-৩), আয়েশা ফেরদাউস (নোয়াখালী-৬) এবং হাবিবুন নাহার (বাগেরহাট-৩)। তারা সবাই নিজ নিজ আসন থেকে আবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছেন।

সংরক্ষিত নারী এমপিদের মধ্যে যারা এবার সরাসরি নির্বাচন করতে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন, তারা হলেন- তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম (টাঙ্গাইল-৬), ঢাকা মহানগরের অবিভক্ত শ্যামপুর-কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম (ঢাকা-৪), মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শিরীন নাঈম পুনম (চুয়াডাঙ্গা-১), সহসভাপতি নাসিমা ফেরদৌসী (বরগুনা-২), সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা (চাঁদপুর-৫), যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন (ঢাকা-১৪), সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি (নড়াইল-১), সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাভানা আক্তার (শরীয়তপুর-২), ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সেলিনা জাহান লিটা (ঠাকুরগাঁও-৩), আখতার জাহান (রাজশাহী-৩), আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (হবিগঞ্জ-১), মাহজাবিন খালেদ বেবী (জামালপুর-২), ওয়াসিকা আয়েশা খান (চট্টগ্রাম-১৩) এবং অ্যাডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল (গোপালগঞ্জ-১)।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নারী নেত্রীদের মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছেন দলের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংরক্ষিত নারী এমপি ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর-৪), আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ (বরিশাল-৪) এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য মারুফা আক্তার পপি (জামালপুর-৫)। সাবেক এমপি ও সাবেক সংরক্ষিত নারী এমপিদের মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হচ্ছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী (ঢাকা-১৭), সুলতানা তরুণ (কুষ্টিয়া-৪), শাহিন মনোয়ারা হক (নওগাঁ-৫), সাধনা হালদার (পিরোজপুর-১), শেফালী মমতাজ (নাটোর-১), সাফিয়া রহমান (রংপুর-৩), সাফিয়া খাতুন (কক্সবাজার-১ ও ঢাকা-১৭), নাজমা আক্তার (ঢাকা-১৮), আসমা জেরিন ঝুমু (ঢাকা-১২), শাহিদা তারেখ দীপ্তি (ঢাকা-১৬) এবং চেমন আরা তৈয়ব (চট্টগ্রাম-১২)।

মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রীদের মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মাহমুদা বেগম কৃক (ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৭), সহসভাপতি আজিজা খানম কেয়া (পাবনা-১), সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজি আলেয়া পারভীন রনজু (ঢাকা-৭), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমা হোসেন (ময়মনসিংহ-১০), ড. জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী (সিরাজগঞ্জ-২), সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমত আরা হ্যাপী (মাগুরা-১), দপ্তর সম্পাদক রোজিনা নাসরীন (বরগুনা-১), ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক হোসনে আরা রানী (বরগুনা-২), সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী (ফেনী-৩), সহপ্রচার সম্পাদক মেহের নিগার তন্ময় (টাঙ্গাইল-৫), কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বাসন্তী চাকমা (খাগড়াছড়ি), নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ড. শিরীন বেগম (নারায়ণগঞ্জ-৪), কক্সবাজার জেলা সভাপতি কানিজ ফাতেমা (কক্সবাজার-৩), পটুয়াখালী জেলা সভাপতি কানিজ সুলতানা হেলেন (পটুয়াখালী-১), পঞ্চগড় জেলা সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা (পঞ্চগড়-১), ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা সভাপতি ড. সেলিনা রশিদ (ময়মনসিংহ-১১), গৌরীপুর উপজেলা সভাপতি ডলি আক্তার (ময়মনসিংহ-৩), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সভাপতি নূরুন্নাহার বেগম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫), কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আয়েশা খানম শিমু (কুমিল্লা-৬) ও যশোর জেলা প্রচার সম্পাদক লাইজু জামান (যশোর-৪)।

যুব মহিলা লীগ নেত্রীদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন সংগঠনের সহসভাপতি কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি (নাটোর-৪), শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফারহানা আক্তার সুমী (নীলফামারী-১), কক্সবাজার জেলা সভাপতি আয়েশা আক্তার (কক্সবাজার-১) এবং রাজশাহী জেলা সভাপতি সেলিনা আক্তার শেলী (রাজশাহী-৫)।

ব্যবসায়িক অঙ্গন থেকে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (বিডব্লিউসিসিআই) সভাপতি ও নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা আহমাদ মেরী কুমিল্লা-২ আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন নাট্যাভিনেত্রী খেলাঘরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শমী কায়সার (ফেনী-৩), নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র ও নাট্যাভিনেত্রী উপস্থাপক জ্যোতিকা জ্যোতি (ময়মনসিংহ-৩) ও অভিনেত্রী তাজমীন নাহার তারিন (ঢাকা-১০)।

বিএনপি

গতবারের নির্বাচন বর্জন করে বেকায়দায় থাকা বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্ট করছে। দেশের অন্যতম এই বড় দল থেকে এবার প্রার্থী হতে অর্ধশতাধিক নারী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে বর্তমানে ত আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিতে নারী হেভিওয়েট প্রার্থী নেই বললেই চলে। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলার দ- নিয়ে কারাগারে রয়েছেন। তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর বাইরে সেলিমা রহমানকেই ধরা হচ্ছে দলটির হেভিওয়েট নারী প্রার্থী হিসেবে।

এর বাইরে রাজনীতির মাঠে বেশ সরব বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন আহমেদের মেয়ে জেবা আহমেদ খান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, জাসাসের সহ-সভাপতি শাহরিয়া ইসলাম শায়লা, নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। এছাড়া ঢাকা-৭ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রয়াত নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা। নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন সাবেক কমিশনার ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সুলতানা রাজিয়া শাওন, হেলেন জেরিন খান, সৈয়দা আসিয়া আশরাফি পাপিয়া, বেবি নাজনীন, কনক চাঁপা, রিজিয়া পারভিন, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সালতানা আহমেদ মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।

রাজধানীর আসনগুলোর মধ্যেনব্বইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীনেত্রী শিরীন সুলতানা ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচন করার ব্যাপারে আশাবাদী। একই আসন থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।ঢাকা-৭ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রয়াত নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা। নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন সাবেক কমিশনার ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিও ঢাকা-১৪ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলের প্রয়াত মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ নবম সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে অংশ নেন। এবারও একই আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ফরিদপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচনের দলীয় মনোনয়নপত্র জামা দিয়েছেন জাসাস সহসভাপতি শাহরিয়া ইসলাম শায়লা। মাদারীপুর-২ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি হেলেন জেরিন খান। শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাহমিনা আওরঙ্গ।

ফেনী-২ আসন থেকে এবার সরাসরি নির্বাচন করতে চান দু’বার সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত এমপি রেহানা আক্তার রানু। চাঁদপুর-৪ আসনে সরাসরি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা।

বিএনপিতে নিবেদিত নারীনেত্রীদের মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বর্ষীয়ান রাজনীতিক হিসেবে সারাদেশে সুপরিচিত। বরিশাল-৩ আসন থেকে নির্বাচন করবেন তিনি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এ আসন থেকে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন সরাসরি নির্বাচন করতে চান বরিশাল-৫ থেকে। ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন আহমেদের মেয়ে জেবা আহমেদ খান। ।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) থেকে সরাসরি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম জামা দিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী তানজীন চৌধুরী লিলি। বর্তমানে তিনি বিএনপি সমর্থিত নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি হোসনে আরা গিয়াস। মানিকগঞ্জ সদর থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আফরোজা খান রিতা। জামালপুর-১ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শাহিদা আক্তার রিতা। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। জামালপুর-৫ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি। সুবক্তা হিসেবে পরিচিত সাবেক এই ছাত্রনেত্রী বলেন, দেশের কোনো ক্ষেত্রেই নারীরা পিছিয়ে নেই। তা হলে কেন সংরক্ষিত আসনে তাদের এমপি হতে হবে? সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমপি নির্বাচিত হতে চাই। নির্বাচনের জন্য জনসংযোগ শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।

সিলেট অঞ্চলে সক্রিয় নেত্রী :সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছেন নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা। স্বামীর অবর্তমানে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে আসীন এই নেত্রীই দলের মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে প্রত্যক্ষ নির্বাচনে আগ্রহী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি ও ঢাবি রোকেয়া হল শাখার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাম্মী আক্তার।

চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণী ফারহাত কাদের চৌধুরী। বিএনপি থেকে তার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে অনেকের ধারণা। নবম জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি আসনে ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। স্বামীর পাশাপাশি তিনিও আগামী নির্বাচনে কক্সবাজারের যে কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচন করতে চান।

ধানের শীষের প্রার্থী হতে মনোনয়ন পত্র কিনেছেন সাবেক এমপি ও ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। নাটোর-৪ আসন থেকে দলের মনোনয়ন চাইবেন তুখোড় বক্তা হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী। নীলফামারী-৪ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচন করতে চান কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন।

LEAVE A REPLY