তিন মাসের বাসা ভাড়া মওকুফে প্রজ্ঞাপন জারি করা এখন সময়ের দাবি

0
7

স্টাফ রিপোর্টার: বৈশ্বিক মহামারি রূপ নেয়া করোনাভাইরাসে গত মঙ্গলবার পযন্ত দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন ৩৯ জন। মৃতের সংখ্যা ৫ । সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ জন। আইসোলেনশনে আছেন ৪০ জন। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ৪৬ জন রয়েছেন বলে আইইডিসিআর জানিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ১৮ হাজার ৮৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৬১৩। আক্রান্ত মধ্যে চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮৭৯ জন। বিশ্বের ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি এখন বিপদজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সেক্ষেত্রে শুধু ঢাকা নয় পুরো দেশকেই লকডাউন করার প্রয়োজন হতে পারে। গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে রোববার হতে এঢ়াড়া মাদারিপুরেও করা হয়েছে লক ডাউন।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যদি সংক্রামক ব্যাতি দিনি দিনে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে ঢাকাসহ আরো অনেক এলাকাকেই অবরুদ্ধ করে ফেলতে হবে। এ পর্যায়ে এমনিতেই ঢাকাসহ শহর গুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তৈরি পোশাক কারখানার রফতানি কার্যাদেশ বাতিল হচ্ছে প্রতিদিন, কমছে উৎপাদন। কাজ কমে যাচ্ছে শ্রমজীবী মানুষের। এমনকি অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গত মাসের বেতন এখনো দেয়া হয়নি। অন্যদিকে শহর বা দেশ অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে প্রায় সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে নিম্ন বিত্ত আয়ের মানুষ কিভাবে দিনযাপন করবেন? আর কিভাবে তারা বাসা ভড়া পরিশোধ করবেন। ইতিমধ্যে ঢাকার রাজধানীতে বেশ কিছু বিত্তবান বাড়ীর মালিক বড় মনের পরিচয় দিয়ে ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করেছেন।

তাই শুধু ঢাকায় নয় সারা দেশের বাড়ীর মালিকদের এই দূর্যোগ মেকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে তিন মাসের ভাড়া মওকুফের মাধ্যমে। বিশেষ করে বাড়ীর মালিবগণ ভাড়া না পেলে কোন দূর্যোগের কথা এমনকি কোন অযুহাত শুনছেন না। ১০ তারিখে যারা ভাড়া পরিশোধ করতে পারেন নি তাদেরকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে ভাড়া পরিশোধ করতে । সরকার সব ধরনের সুযোগ সুবিধার কথা বলেছেন কিন্তু যাদের আয়ের কোন উৎসনেই তারা কিভাবে মাস শেষ হলে বাসা ভাড়া প্রদান করবে বাড়ীর মালিকদের? এই সমাধান এখনও ঝুলে আছে কোন এক টেবিলে আর প্রজ্ঞাপন জারিতে।

একজন বাড়ীর মালিক কি তিন মামের ভাড়া না পেলে পথে বসবেন? কোটি কোটি টাকা ব্যায় করেছেন একটি বিল্ডিং নির্মান করতে সেখানে তিন মাসে একজন বাড়ীর মালিক সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা লোকশান গুনতে হবে দেশের মানুষের স্বার্থে। কিছু অমানবিক বাড়ী মালিক আছেন যারা ভাড়ার টাকার উপর নির্ভশীলের কথা বলছেন। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের কথা ভাবতে হবে এই সকল বাড়ীর মালিকদের। অন্যথায় উপকারের চেয়ে অপকার হয়ে যেতে পারে।

দেশে তখনই দূর্ভোগ আসবেনা যখন একটি পরিবার সব ধরনের সার্পোট সরকারের পক্ষ হতে পেয়ে থাকবে। সরকার বাড়ীর মালিকদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করবেন এমনটি প্রত্যাশা করেন দেশের মধ্যআয়ের নিম্নবিত্ত আয়ের উৎসর মানুষ গুলো। এদিকে নিম্নবিত্তদের জন্য এনজিও ঋণের কিস্তি ছয় মাসের জন্য শিথিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। এর ফলে আগামী জুন পর্যন্ত ঋণ গ্রহীতা কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সেটিকে খেলাপি বা বিরূপমানে শ্রেণিকরণ করা যাবে না। গত ২২ মার্চ সংস্থাটি এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে।

এজন্য মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) প্রসংশার দাবি রাখে। নিম্নবিত্তদের জন্য এনজিও ঋণের কিস্তি ছয় মাসের জন্য শিথিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) মতো অন্তত তিন মাসের বাসা ভাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল ব্যতীত যেনো প্রত্যেক বাসার মালিকগণ ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে না নেন তার জন্যও সরকারকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা অতীব জরুরি বলে মনে করছেন নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত ভাড়াটিয়াগণ। মানবিক দিক বিবেচনা করেই সরকারকে ন্ম্নিবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের তিন মাসের বাসাভাড়া মওকুফ করার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সারাদেশের বাড়ী মালিকদেরকে এব্যপারে আস্তরিক হতে হবে।

অন্যথায় বড়ীর মালিকদের অমাসবিক ব্যবহার আর বাসা ভাড়ার চাপে মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ গুলো দিশেহারা হযে পরবে। সাধারণ মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ গুলোর দাবি মধ্যবিত্ত মানুষের চিন্তামুক্ত করতে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একমাত্র সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হয়ে সমাধান দিতে পারেন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলার একটি অংশ হিসেবে একটি জনস্বার্থের প্রজ্ঞাপনই পারে দেশের ভাড়াটিয়াদের চিন্তা মুক্ত করতে।

LEAVE A REPLY