ডেঙ্গু আতঙ্কে বাংলাদেশ ছুটছে মানুষ প্লাটিলেটের খোঁজে  শান্তিনগর কোয়ান্টামে

0
28

খন্দকার মাসদুর রহমান দিপু: ডেঙ্গু আতঙ্কে বাংলাদেশ ছুটছে মানুষ প্লাটিলেটের খোঁজে শান্তিনগর কোয়ান্টামে অথবা ইউনাটেড কিংবা স্কয়ারে। প্রতিনিয়ত  ব্লাড ডনারের খোজে এখনও মানুষ অসহায়। মানবতার কারনে অনেকেই আসেন ব্লাড দিতে কেউ আবার আতঙ্কে।  বেঁেচ থাকতে কে না চায় ? তাই বলে মশার কামড়ে মৃত্যু এটাকি মেনে নেওয়া যায়?  মশা মারতে কামান লাগে না কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ভিন্নরুপ ধারন করেছে এদেশে। সরকার একযোগে কাজ করছে কিন্তু রেহাই পাচ্ছে না এডিস মশা আক্রান্ত মানুষ। কেউ সুস্থ হচ্ছেন আবার কেউ মরছেন।

ডেঙ্গু সাধারণত  ৪ ভাগে বিভক্ত ধারণ করেছে বর্তমানে  তার মধ্যে ডেনভি-১, ডেনভি-২, ডেনভি-৩, ডেনভি-৪ বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর মধ্যে ডেনভি-৩ এবার আকার ধারণ করেছে। গত দুইমাস যাবৎ  সারাদেশ ব্যাপি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে। সবার মধ্যে আতঙ্ক এখন ডেঙ্গু  নিয়ে। সারাদেশে  প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু  রোগীর সংখ্যা। দেখতে দেখতে প্রায় মহামারির রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। ডেঙ্গু -আক্রান্ত  রোগী ও এ রোগে মৃতের সরকারি আর বেসরকারি সংখ্যায় বিস্তর ফারাক। হাসপাতাল গুলো ডেঙ্গু  রোগী নিয়ে হিমশিম অবস্থায়। কোন শরীরে  কোন লক্ষণ  দেখলে আপনি বুঝবেন  যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন  এবং সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী হতে পারে ? ডেঙ্গুর লক্ষন এখন আর কোন মানুষের অৎানা নয় তবে জ¦র না হলেও ডেঙ্গু হতে পারে এই বিষয়টি অনেকই অবগত নয় তথা চোরা ডেঙ্গু। নি¤েœ বিস্তারিত

১.      ডেঙ্গু  লক্ষণগুলো কী ?

সাধারণভাবে ডেঙ্গুর  লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। ১০১ ডিগ্রি  থেকে ১০৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ্বর  ছেড়ে  দেবার পর আবারো জ্বর আসতে পারে। এর সাথে শরীরে ব্যথা মাথা ব্যথা, চোখের  পেছনে ব্যথা এবং চামডায় লালচে দাগ (র্যাশ) হতে পারে। তবে এগুলো না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।

২. জ্বর হলেই কি চিন্তিত হবেন ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন  যেহেতু ডেঙ্গুর সময়,  সে জন্য জ্বর হল অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বরে আক্রান্ত হলেই সাথে-সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা আরো বলেন , ডেঙ্গু  জ্বরে আক্রান্ত হয়ে  যারা মারা গেছেন, তারা জ্বরকে অবহেলা করেছেন। জ্বরের সাথে যদি সর্দি- কাশি, প্রসাবে জ্বালাপোডা কিংবা অন্য কোন বিষয় জড়িত থাকে তাহলে সেটি ডেঙ্গু  না হয়ে অন্যকিছু হতে পারে। তবে জ্বর হলেই সচেতন থাকতে হবে।

৩. ডেঙ্গু  জ¦রে বিশ্রামে থাকতে হবে

ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোস্তফকা কামাল বলেন, জ্বর হলে বিশ্রামে থাকতে হবে। তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, জ্বর নিয়ে দৌড়ঝাপ করা উচিত নয়। একজন ব্যক্তি সাধারণত  প্রতিদিন  যেসব পরিশ্রমের কাজ করে,  সেগুলো না করাই ভালো। পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিলেই রোগ মুক্ত হওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সঠিক সময়ে সেবন করতে হবে।

৪. কী খাবেন ?

প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার  সেবন করতে হবে। বিশেষ করে ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন ।  পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।

৫. যেসব ঔষধ খাবেন

ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওযাবেন  স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল  খেতে পারবে। শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরে সাথে পরামর্শ করে ঔষধ খাওয়াবেন। চিকিৎসকরা বলছেন, প্যারাসিটামলের সর্বোচ্চ ডোজ হচ্ছে প্রতিদিন চার গ্রাম। কিন্তু কোন ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল  সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাওযা যাবে না। ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

৬. প্লাটিলেট বা রক্তকণিকা নিয়ে চিন্তি ?

ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্লাটিলেট বা রক্তকণিকা এখন আর মূল ফ্যাক্টর নয় বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক তাহমিনা। তিনি বলেন, প্লাটিলেট কাউন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কোন প্রয়োজন নেই। বিষয়টি চিকিৎসকের উপর ছেে দেয়াই ভঅলো। সাধারণত একজন মানুষের রক্তে প্লাটিলেট কাউন্ট থাকে  দেলাখ  থেকে সাড়ে চার-লাখ পর্যন্ত।

৭. ডেঙ্গু  হলেই কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ?

ডেঙ্গু  জ্বরের তিনটি ভাগ রয়েছে। এ ভাগগুলো হচ্ছে – এ, বি এবং সি। প্রথম ক্যাটাগরির রোগীরা নরমাল থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু  রোগী এ ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হবার কোন প্রয়োজন নেই। বি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু  রোগীদের সবই স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় সেক্ষেত্রে এন্টি ডেঙ্গু  টেষ্ট করে রাখা ভালো এতে তার পূর্বে ডেঙ্গু হয়েছিল  হয়েছিল কি না তা নির্নয় করা যায় এবং সঠিক ঔষধ দেওয়া যায়। যেমন তার পেটে ব্যথা হতে পারে, বমি হতে পারে প্রচুর কিংবা সে কিছুই খেতে পারছে না। অনেক সময়  দেখা যায়, দুই দিন জ্বরের পরে শরীর ঠান্ড হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হওযায় ভালো। সি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু  জ্বর সবচেয়ে খারাপ। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ’র প্রয়োজন হতে পারে।

৮. ডেঙ্গু জ্বরের সময়কাল

সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু  জ্বরের প্রকোপ থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের সময়কাল আরো এগিয়ে এসেছে। এখন জুন মাস থেকেই ডেঙ্গু  জ্বরের সময় শুরু হয়ে যাচ্ছে।

৯. এডিস মশা কখন কামড়ায়?

ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা অন্ধকারে কামড়ায় না। সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা তৎপর হয়ে উঠে। এডিস মশা কখনো অন্ধকারে কামড়ায় না।

১০. পানি জমিয়ে না রাখা

বিশেষজ্ঞরা  বলছেন, এডিস মশা ভদ্রমশা হিসেবে পরিচিত। এসব মশা সুন্দর-সুন্দর ঘর-বাড়িতে বাস করে।

এডিস মশা সাধারণত ডিম পাড়ে স্বচ্ছ পানিতে। কোথাও যাতে পানি তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি জমা না থাকে। এ পানি যে কোন জায়গায় জমতে পারে। বাডীর ছাদে কিংবা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা টায়ার কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে।

ডেঙ্গু আতঙ্গে সারাদেশের মানুষ এই বিষয়টি অশিকার করা যাবে না সরকার ডেঙ্গু তথা এডিস মশা ডিম ধ্বংসে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে কিন্তু কিছু অসচেতন ব্যাক্তিদের কারনে এই এডিস মশা ডিম বংশ বিস্তার হচ্ছে আর এতে ডেঙ্গু প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ডেঙ্গু কোন বড় ধরনের রোগ নয় কিন্তু এর আক্রান্তে সারাদেশে বেশ অনেক সংখ্যক লোক মারা গেছে তাদের মধ্যে নারী শিশু পুরুষ কেউ বাদ যায়নি।  বিশেষ করে এই রোগের আতঙ্কে অনেক সুস্থ মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পরেছে আর কিছু অসাধু ডাক্তারগণ এর ফায়দা লুটেছেন। একজন ডেঙ্গু  রোগীর রক্তের প্লাটিলেট যখন ২০ হাজারের নিচে আসে তখনই প্লাটিলেট প্রয়োজন হয় আর তখন রোগীর আত্বীয় স্বজন বøাড ডনার খুজতে শুরু করেন। সাধারণত  ভাল মেশিনে প্লাটিলেট করলে ১ ইউনিট রক্তের জন্য ২ জন ডনারই যথেষ্ট কিন্তু ষ্কয়ার কিংবা ইউনাইটেড ব্যাতিত ভর্তি হলে সেক্ষেত্রে ৪ জন ডনারের রক্ত প্লাটিলেট করতে হয় শান্তিনগর কোয়ন্টাম হতে, এক্ষেত্রে খরচ লাগে ৩৮০০ শত টাকা আর স্কয়ার ও ইউনাইটেডে  প্রতি ইউনিটে ২৫ হাজার টাকা। অনেকেরই ১ ইউনিট রক্ত দিলেও প্লাটিনেট উঠে না সেক্ষেত্রে পুনরায়  ১ ইউনিট রক্ত দিতে হয়। এই রোগটি ভয়াবহ না হলেও রক্তের প্লাটিলেট দেয়ার কারনে ভয়াবহ বিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সরকার জনসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষে সর্বপ্রকার কাজ করে যাচ্ছে কিন্তু কপাল দোষে মানুষ গুলো মৃত্যুর মুখি হচ্ছে এর জন্য সরকারকে দায়ী করা যাবে না তবে সরকারের সবোর্চ্চ সহযোগীতা শেষ অবদি থাকতে হবে।  তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে এ বিষয়ে বেশী কিছু করার নেই। তাই ডেঙ্গু  উৎস এডিস মশার উৎপাদন রোধে নিজেদের সচেতন হতে হবে। সাধারণ মানুষের সচেতনতা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে উপযোগী পদক্ষেপ। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে আমাদের সকলকে এই রোগ হতে মুক্তি দিন।

LEAVE A REPLY