আহত তুষার হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ীতে হাজীগঞ্জে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে অব্যাহত হুমকী

0
122

স্টাফ রিপোর্টার : সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত তুষার হাসপাতাল ছেড়ে এখন নিজ বাড়ীতে উঠেছে। ফতুল্লা থানাধীন উত্তর তল্লা এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম আজমের ছোট ছেলে তুষার (২৩) গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে অতর্কিত সন্ত্রাসীদের হামলায় রক্তাক্ত যখম হয়। ১২ দিন আইসিউতেসহ হাসপাতালে ২৪দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বর্তমানে হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ীতে উঠেছে আহত তুষার। এই ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা হলেও অদ্যবদি পর্যন্ত কোন আসামীকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। যার ফলে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য বাদীপক্ষকে আসামী পক্ষ একের পর এক জীবন নাশের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সানজিল (২৯), সনয় (২০), শোভন (২১), আলী হোসেন মেকার (৪৫), সাদিপ (২০), মামুন (৩৫), সাগর (২৮), আলমগীর (৩৮), রায়হান (২০), শফিক (২৬), রাব্বী (২৪), হৃদয় (২৪) সহ আরও ৬/৭ জন সংঘবদ্ধ হয়ে গত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাত্র প্রায় পৌনে ৮টায় হাজীগঞ্জ মুলিবাঁশের মোড়ে বীরমুক্তিযোদ্ধার ছেলে তুষারকে একা পেয়ে সানজিলের নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালায়। আসামীরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র, লোহার রড, ছুরি, চাকু, রামদা, চাপাতি সহ লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে এলোপাথারি ভাবে মারধর করতে থাকে তুষারকে। এক পর্যায়ে সানজিল হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে তুষারের মাথায় কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম করে। আঘাত প্রাপ্ত হয়ে তুষার মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সনয় লোহার রড দ্বারা হাতে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে বাম হাতের হাড় ভাঙ্গা জখম করে। শোভন, আলী হোসেন মেকার, সাদিপ, মামুন, রাব্বি, হৃদয়, সাগর, আলমগীর, রায়হান ও শফিকসহ আরও ৬/৭ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কাঠের ডাসা ও লোহার রড দিয়ে এলোপাথারি পিটাইয়া কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। অন্যদিকে সনয় তুষারের প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ও আলী হোসেন মেকার একটি সিম্ফোনি আই-২০ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং শোভন প্রাণনাশের জন্য তুষারের গলা চেপে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। তখন আহত তুষারের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। তখন তুষারকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার অবস্থার বেগতিক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তার মাথায় অস্ত্রপ্রচার করার পরে ১২দিন আইসিইউ’তে ছিল। পরবর্তীতে সিদ্ধিরগঞ্জের প্রো-একটিভ মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে গত ২২ জানুয়ারী পর্যন্ত চিকিৎসাধীন থাকার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ছাড়পত্র দিয়ে নিজ বাড়ীতে পাঠান। বাড়ীতে তার চিকিৎসা চলছে। উপরোক্ত ঘটনায় উল্লেখিত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ১৪৩/৩২৩/৩২৪/ ৩২৫/৩২৬/৩০৭/৫০৬ পেনাল কোড-১৮৬০ ধারায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা রুজু হয়। মামলা নং-১৫।
এদিকে ঘটনার পর থেকে হামলাকারীরা তুষারের বড় ভাই ও মামলার বাদী জিএম মোস্তফাসহ তার পরিবারের সদস্যদের মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য এজাহারভুক্ত আসামী ও সানজিলের আত্মীয়-স্বজন এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জীবননাশের হুমকী দিয়ে আসছে। শুধু তাই নয় বাড়ীর আশেপাশে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ঘোরাফেরা করায় ভুক্তভোগী পরিবার শংকিত ও আতংকিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে এজাহারভুক্ত ১২ আসামীর মধ্যে ৫জন আসামী জামিনে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যারফলে বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। এলাকাবাসী জানায় একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে যেভাবে সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করে গুরুতর অবস্থায় মৃত্যুর মুখে পতিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে বলে আশাবাদী।

LEAVE A REPLY