আবারও আগুনে পুরো বস্তি পুড়ে ছাই

0
24

প্রেসবিডি ডটনেট:  নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার একটি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অন্তত ৭০ টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রতিটি ঘরেই গার্মেন্টের ঝুট ও কাটা কাপড় ছিলো। ১ আগস্ট দিবাগত রাত ৩ টার দিকে উপজেলার ফতুল্লার লিংক রোড এলাকার সাবরেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাÐের খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের মÐলপাড়া, হাজীগঞ্জ ও আদমজী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ৭টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও পুরো বস্তি এলাকায় ছাই ছাড়া অবশিষ্ট আর কিছু পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারি পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন অগ্নিকান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেন নি। এমনকি কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা সে খবরও নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

আগুন লাগার সংবাদে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, জেলা পরিষদ ও নারায়ণগঞ্জ কারাগারের মধ্যবর্তী স্থান তথা রেজেস্ট্রি অফিস সংলগ্ন একটি বস্তিতে প্রায় ৭০ টি ছোট বড় কাঁচা ঘর রয়েছে। এখানে গার্মেন্টের ঝুট ও কাটা কাপড় রেখে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি ব্যবসা করেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে এ বস্তিতে হঠাৎ করেই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বস্তিতে। আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বস্তিতে মালিকসহ স্থানীয় শত শত নারী পুরুষ লিংক রোডে এসে অবস্থান নেয় এবং বস্তি ঘরের মালিকদের অনেককেই আহাজারি করতে দেখা যায়।

এদিকে আগুন লাগা বস্তির পাশেই একটি সিএনজি স্টেশন থাকায় আশেপাশের অনেকের মাঝেই ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে শুরু করে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, আগুন লাগার প্রায় আধঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এর আগের থেকেই নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ঘটনাস্থলে আসা ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা লিংক রোডের দুপাশের যানচলাচল বন্ধ করে দিলে প্রায় ঘণ্টাখানিক এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারি পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন ঘটনাস্থল থেকে নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে জানান, আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে সাথে সাথেই মÐলপাড়া, হাজীগঞ্জ ও আদমজী ফায়ার স্টেশনের সাতটি ইউনিট কর্মীরা আগুন নেভালোর কাজ শুরু করে। প্রায় ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি বলেন, জলাধারের উপর ভাসমান অবস্থায় গড়ে উঠা এই বস্তিতে বেশ কয়েকটি টং দোকান, ঝুটের গুদাম ও ঘর বাড়ি সহ প্রায় ৭০ টি স্থাপনা রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত এবং কী পরিমাণের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। এমনকি কোনো হতাহতের খবরও আমরা পাইনি কিংবা অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে বলে কেউ এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। তাই ধারণা করা হচ্ছে কোনো ধরণের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

LEAVE A REPLY